নামায ও নামাযের মাসাইল

নামায সম্পর্কে মাসআলা-মাসাইল নিয়ে এখানে কাজ করবেন মুফতি হাবীবুল্লাহ মিসবাহ সাহেব।

Far far away, behind the word mountains, far from the countries Vokalia and Consonantia, there live the blind texts. Separated they live in Bookmarksgrove right at the coast
Far far away, behind the word mountains, far from the countries Vokalia and Consonantia, there live the blind texts. Separated they live in Bookmarksgrove right at the coast
Far far away, behind the word mountains, far from the countries Vokalia and Consonantia, there live the blind texts. Separated they live in Bookmarksgrove right at the coast

শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নামায পড়ার তরীকা

নামাযের মধ্যে যা যা করতে হয় এবং যেভাবে যেভাবে করতে হয়, তার ধারাবাহিক বর্ণনা 

* নামায পড়ার জন্য পবিত্র স্থানে দাঁড়াসনা ফরয।

* কেবলামুখী হয়ে দাঁড়ানো ফরয।

* পা দুটো সোজা কেবলামুখীকরে রাখা সুন্নাত।

* পায়ের মাঝখানে সামনে পেছনে সমান ফাঁক রাকবে যাকে পা সোজা কেবলামুখী হয়।

* দুই পায়ের মাঝখানে হাতের মিলিত চার আঙ্গুলের পরিমাণ ফাঁক রাখা মোস্তাহাব।

( আহছানুল ফাতোয়া ৩নং খন্ড) 

* নামাযে নিয়ত বাধার পূর্ব পর্যন্ত হাত ছাড়া অবস্থায় রাখবে । (বাধা মাকরূহ)

* উভয় পায়ের উপর সমান ভর করে দাঁড়াবে। এক পায়ের উপর সম্পূর্ণ ভর করে দাঁড়ানো মাহরূহ।

*নিয়ত করা ফরয। নিয়তের ক্ষেত্রে প্রচলিত লম্বা চওড়া বাক্য বলা নিষ্প্রয়োজনীয়। ফরযের ক্ষেত্রে শুধু কোন্ ওয়াক্তের ফরয তার উল্লেখ এবং সুন্নাত নফলের ক্ষেত্রে শুধু নামাযের উল্লখ করলেই যথেষ্ট।  ( احسن الفتاوی ج/٣

* নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা উত্তম।

* নিয়ত আরবীতে বলা ভাল। (বেহেশতী জেওর) আরবীতে নিয়ত করতে হবে- এমন জুরূরী মনে করা ঠিক নয়।

* নিয়ত বাধার সময় কান পর্যন্ত  হাত উঠানো সুন্নাতে মুআক্কাদা। হাত উঠানোর সময় পুরুষগণ চাদর পরিহিত থাকলে তার মধ্য থেকে হাত বের করবে। মহিলাগণকাপড়ের মধ্য থেকে হাত বের করবে না। মহিলাগণ সিনা পর্যন্ত হাত উঠাবে এমনভাবে যেন আঙ্গুলের অগ্রভাগ কাঁধ পর্যন্ত উঠে ।

( শরহে মুনিয়াহ )

* পুরুষ মহিলা উভয়ের জন্য হাতের তালু আঙ্গুলের পেটসহ কেবলামুখী রাখা ( উপর দিকে নয় ) সুন্নাত।

* হাতের আঙ্গুলসমূহকে মিলাবে না বরং আঙ্গুল সমূহের মাঝে স্বাভাবিক ফাক থাকবে, এটাই সুন্নাত।

* পুরুষের জন্য দুই বৃদ্ধ আঙ্গুলের অগ্রভাগ কানের লতির সাথে লাগানো মোস্তাহাব।

* আল্লাহু আকবার বলে নিয়ত বাধবে।এই তাকবীর ফরয।এটাকে তাক্বীরে তাহ্রীমা বলে।

* আল্লাহু এবং আকবার শব্দ দুটোর আলিফে জোর দিয়ে উচ্চারণ করা এবং হা কে সামান্য টানের আভাস দিয়ে উচ্চারণ করা উত্তম।

* হাত উঠিয়ে কানের লতির সাথে বৃদ্ধ আঙ্গুল স্পর্শ করার পর আল্লাহু আকবার বলতে শুরু করা উত্তম হাত উঠাতে উঠাতে বা হাত উঠানো শুরু করার পূর্বেও আল্লাহু  আকবার বলে নেয়া যায়।

*হাত বাধা সম্পূর্ণ হবে ,আল্লাহু আকবার বলাও শেষ হবে-এরূপ করা উত্তম।

* কান থেকে হাত সোজা বাধার দিকে নিয়ে যাবে, হাত সোজা  নীচের দিকে ছেড়ে দিবে না বা পেছনের দিকে ঝাড়া  দিবে না।

* তাকবীরে তাহ্ রীমা বলার       সময় স্বাভাবিক ভাবে সোজা  দাঁড়ানো থাকবে-মাথা নীচের দিকে ঝুঁকাবে না।

* নাভির নীচে হাত বাধা সুন্নাত (নাভীর পরেও রাখা যায়।)

* ডান হাতের তালু বাম হাতের পিঠের উপর রাখবে।

* ডান হাতের বৃদ্ধ ও কনিষ্ঠ আঙ্গুল দিয়ে বাম হাতের কবজি ধরা সুন্নাত।

* সাজদায় যাওয়ার সময় উভয় হাটু একত্রে, তারপর উভয় হাত একত্রে,তারপর নাক  এবং তারপর কপাল জমীনে রাখবে। এই তারতিব সুন্নাত। ওজরের সময় হাটুর পূর্বে  হাত রাখতে হলে প্রথমে ডান হাত, তারপর বাম হাত, তারপর উভয় হাটু একত্রে রাখবে  (আহছানুল ফাতুয়া খন্ড ৩)

* হাটু জমীনে লাগার পূর্বে কোমর মাথা সামনের দিকে ঝুঁকানো মাকরূহ বরং কোমর সোজা রাখবে (احسن الفتاوی ج/٣)

সাজদায় যাওয়ার সময় হাঁটুর উপর হাত দিয়ে ভর না করা, এতে হাঁটু মাটিতে লাগার পূর্বেই কোমর ও মাথা সামনের দিকে ঝুঁকে যায়। তদুপরি অনেকে এটাকে সুন্নাত মনে করে বিধায় এ থেকে বিরত থাকা উচিত।

সাজদায় যাওয়ার সময় কাপড় নাড়াচাড়া বা টানাটানি করবে না। এরূপ করা মাকরূহ।

* উভয় হাতের মাঝে চেহারার চওড়া পরিমাণ ফাঁক রাখবে।

* উভয় হাতের সমস্ত আঙ্গুল খুব মিলিয়ে রাখা সুন্নাত। 

* উভয় হাতের সমস্ত আঙ্গুলের অগ্রভাগ কেবলামুখী রাখা সুন্নাত।

* উভয় হাতের মধ্যখানে বৃদ্ধ আঙ্গুলদ্বয়ের নখ বরাবর নাক রাখবে।

* নজর নাকের উপর রাখা আদব।

* দুিই পায়ের টাখনু কাছাকাছি রাখবে, মিলাবে না। সাজদাতে টাখনু মিলানো বা পৃথক রাখা সম্পর্কে হাদীছে উভয় রকমের বর্ণনা পাওয়া যায়। এতদুভয়ের মাঝে সমন্বয় হল কাছাকাছি রাখবে। আহছানুল ফাতুয়া গ্রন্থে কয়েকটি যুক্তির ভিত্তিতে এটাকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।

* উভয় পা খাড়া রাখবে।

* পায়ের আঙ্গুলসমূহ জমীনের সাথে চেপে ধরে যথাসম্ভব আঙ্গুলের অগ্রভাগ কেবলামুখী করে রাখবে।

*কপালের অধিকাংশ ও নাক জমীনের সংঙ্গে লাগিয়ে রাখা ওয়াজিব। (احسن الفتاوی ج/٣)

* পুরুষগণ পেট রান থেকে, বাহু পাজর থেকে এবং কনুই জমীন থেকে পৃথক রাখবে।

* মহিলাগণ উভয় পা ডান দিকে বের করে দিবে এবং পেট দুই রানের সঙ্গে এবং বাহু পাঁজরের সঙ্গে মিলিয়ে ও কনুই পর্যন্ত হাত জমীনের সঙ্গে লাগিয়ে খুব চেপে সাজদা করবে।

*  সাজদায়েسبحان ربىالاعلى ( আমার মহান রবের পবিত্রতা বর্ণনা করছি) পড়া সুন্নাত। এই তাসবীহ তিন/পাঁচ/সাত-এরূপ বেজোড় সংখ্যায় পড়া সুন্নাত।

* আল্লাহু আকবার বলে সাজদা থেকে উঠা সুন্নাত। উঠার সময় প্রথমে কপাল, তার পর নাক, তারপর হাত জমীন থেকে উঠানো সুন্নাত।

* সোজা হয়ে বসার সাথে সাথে আকবার বলা শেষ করবে। এটাই সুন্নাত তরিকা।

* বাম পা বিছিয়ে তার উপর বসা সুন্নাত। মহিলাগণ নিতম্বের উপর বসবে।

বসার সময় পুরুসের জন্য ডান পা সোজা খাড়া রাখা সুন্নাত।

ডান পা জমীনের সঙ্গে চেপে ধরে যথা সম্ভব ডান পায়ের আঙ্গুলগুললো কেবলামুখী করে রাখা সুন্নাত। মহিলাগণ উভয় পা ডান দিকে বের করে দিবে।(شرح منیتہ)

* বসার সময়         হাতেরআঙ্গুলগুলোর মাঝে সামন্য ফাঁকা রাখা মোস্তাহাব।(شرح منیتہ) মহিলাগণ আঙ্গুল মিলেয়ে রাখবে।بہشتی زیور

* হাতের আঙ্গুলগুলো সোজা কেবলামুখী করে রাখা মোস্তাহাব।(شرح منیتہ و شرح وقایتہ)

* হাতের আঙ্গুলগুলোর অগ্রভাগ হাটুর কিনারা বরাবর রাখবে।

* বসার সময় নজর কোলের উপর নিবদ্ধ রাখা আদব।

* দুই সাজদার মাঝখানে স্থির হয়ে বসা ওয়াজিব।

দুই সাজদার মাঝখানে নিম্নোক্ত দু‘আ পড়া মোস্তাহাবঃ

অথবা اللهم اغفرلى وار حمنى وارزقنى وهدنى اللهم اغفرلى وارحمنى وعافنى واهدنى وارزقنى وار فعنى واجبرنى দ্বিতীয় সাজদায় যাওয়ার এবং সাজদার মধ্যে উপরোক্ত আমল সমূহ (১৮টা) করা।

* দ্বিতীয় সাজদা থেকেও আল্লাহু আকবার বলে উঠা সুন্নাত্ উঠার সময়  প্রতমে কপাল, তারপর নাক, তারপর হাত এবং তারপর হাঁটু জমীন থেকে উঠানো সুন্নাত।

* ২য় সাজদা থেকে উটে বসা ছাড়াই দাঁড়িয়ে যাওয়া সুন্নাত।

* হাঁটুর উপর হাতের ভর করে উঠা মোস্তাহাব।احسن الفتاوی ج/٣

* সোজা হয়ে দাঁড়ানোর সাথে আকবার শব্দের উচ্চারণ শেষ করবে।

* ২য় রাআতে ২য় সাজদা থেকে উটে বসে তাশাহ্হুদ পড়া ওয়াজিব।

* তাশাহহুদ- এর মধ্যে اشهد ان ( আশহাদু আল) বলতে বলতে হাতের  হালকা বাধা অর্থাৎ, ডান হাতের বৃদ্ধ আঙ্গুরের অগ্রভাগ এবঙ মধ্যমার অগ্রভাগকে মিলানো  এবং কনিষ্ঠ ও অনামিকাকে হাতের তারুর সঙ্গে মিলানো ।এটা  মোস্তাহাব । ‘লাইলাহা’ বলতে বলতে শাহাদাত অঙ্গুরিকে উপর দিকে উঠানো, এতটুকু উঠানো যেন তার অগ্রভাগ কেবলামুখী হয়ে যায়। ‘ইল্লাল্লাহ’ বলার সময় নীচেরদিকে নামানো । তবে বৈঠকের শেষ পর্যন্ত রানের   সাথে  না সমলিয়ে উঁচু করে  রাখার নিয়ম ।احسن الفتاوی ج/١ এই হালকা বৈঠকের শেষ পর্যন্ত রাখবে। (بہشتی زیور)

* তাশাহ্হুদের পর দুরুদ শরীফ পড়া সুন্নাত।

* তারপর দুআয়ে মাছুরা পড়া মোস্তাহাব।

* তারপর  اسلام عليكم ورحمةالله বলে উভয় দিকে সালাম ফিরানো ওয়াজিব । (احسن الفتاوی ج/ ٣ )

* সালাম ফিরানোর সময় নজর কাঁধের উপর রাখা মোস্তাহাব।

* ডান দিকে সালাম ফিরানোর সময় ডান দিকের ফিরিমতাকে সালাম করার নিয়ত করবে।

* উভয় সালাম চেহারা কেবলামুখী থাকা অবস্থায় শুরু করবে। এবং কাঁধে নযর করে শেষ করব।

* দ্বিতয়ি সালামকে কম দীর্ঘ করা াবেং আওয়াজ নীচু করা সুন্নাত।

* সালামের সময় ঘাড় এতটুকু ফিরানো যেন ( পিচনে কেউ থাকরে) তার চেহারার উক্ত পাশ দেখতে পারে  (بدائع الصنائع ج/ ١)

* এতক্ষন দুই রাকাত নামাযের বিবরণ পেশ করা হল। তিন/চার রাকাত বিশিষ্ট নামায হলে দ্বিতয়ি রাকাআতের বৈঠকে শুধু তাশাহ্হুদ পড়ে তৃতয়ি রাকাআতের জন্য আল্লাহু আকবার বলে উঠবে। আর সুন্নাতে গায়রে মুআক্কাদা বা নফল নামায হলে প্রথম বৈঠকে দুরূদ এবঙ দুআয়ে মাছুরাও পড়ে তারপর উঠা উত্তম। উল্লেখ্য যে, এ নিয়ম অনুযায়ী প্রথম বৈঠকে দুরূদ এবং দুআয়ে মাছুরা পড়ে উঠলে তৃতীয় রাকাআতে ছানা এবং সূরা ফাতেহার পূর্বে আউযুবিল্লাহ পড়াও উত্তম।

* তিন/চার রাখাআত বিশিষ্ট নামায ফরয হলে তৃতীয়/চতুর্থ রাকাআতে শুধু সুরা ফাতিহা পড়া উত্তম। আর ফরয ব্যতীত অন্যান্য নামাযের ৩য়/৪র্থ রাকাআতে সূরা/কিরাত মিণানো ওয়াজিব।

* শেষ বৈঠকে তাশাহ্হুদের পর দুরূদ শরীফ পড়া সুন্নাত এবং দুআয়ে মাছুরা পড়া মোস্তাহাব।

মুক্তাদী-র জন্য খাস মাসায়েল 

* মুক্তাদী ইমামের পেছনে এক্তেদা করার নিয়ত করবে। েএক্তেদার নিয়ত ব্যতীত মুক্তাদীর নামায সহীহ হয় না।

* ইমামের তাকবীরে তাহরীমা- ‘আল্লাহু আকবার’ শেষ হওয়ার পূর্বে মুক্তাদীর তাকবীর যেন শেষ না হয়।

* ইমামের তাকবীরে তাহরীমা শেষ হওয়ার পর সাথে সাথে মুক্তাদীর তাকবীরে তাহরীমা বলা উত্তম।

* ইমাম সূরা/ কিরাত শুরু করলে মুক্তাদী ছানা পড়বে না।

* মুক্তাদী ইমামের পেছনে সূরা ফাতিহা বা কিরাত কোনটা পাঠ করবে না। সুরা ফাতিহার পূর্বে

 শুরুতে পঠিতব্য বিসমিল্লাহও পাঠ করবেনা।

* মুক্তাদী سمع الله لمن حمده  না বলে তদস্থলে ربنالك الحمد বলতে বরতে উঠবে। شرح منیتہ

* সালাম ফিরানোর সময় ইমামের আস্সালামু বলার পূর্বে মুক্তাদীর আস্সালামু বলা যেন শেষ না হয়।

* ইমামের সালাম ফিরানোর পর সাথে সাথে মুক্তাদীর সালাম ফিরানো উত্তম।

* ডান দিকে সালাম ফিরানোর সময় ডান দিকের মুসল্লী এবং নেককার জিনদেরকে সালাম করার নিয়ত করবে, ইমাম ডান দিকে থাকলে ইমামকে সালাম করার নিয়তও করবে, আর বাম দিকে সালাম ফিরানোর সময় বাম দিকের মুসল্লী 

এবং নেককার জিনদেরকে সালাম করার নিয়ত করবে। আর ইমা সোজা বরাবর থাকলে উভয় সালামেই তাঁর নিয়ত করবে।

মাছ্বূকের জন্য খাস মাসায়েল

* ( যে মুক্তাদী ইমামের সাথে প্রতম রাকাআত থেকে শরীক হতে পারেনি, শুরুর দিকে  এক বা একাধিক রাকাআত ছুটে গিয়েছে, তাকে মাছ্বূক বলা হয়) 

* ইমামের শেষ বেঠকে মাছ্বূক তাশাহ্হুদ এমন ধীরে ধীরে পড়বে, যেন তার তাশাহ্হুদ শেষ হতে হতে ইমামের দুরূদ ও দুআয়ে মাছুরা শেষ হয়ে যায়। তবে আগেই তাশাহ্হুদ শেষ হয়ে গেলে তাশাহ্হুদের শেষ বাক্যটা  ( অর্থাৎ, কালিমায়ে শাহাদাত) বারবার আওড়াতে পারে বা চুপচাপ বসে থাকতে পারে বা তাশাহ্হুদ পুনরায় পড়তে পারে احسن الفتاوی ج/ ٣

* ইমাম সাজদায়ে সাহো দিলে মাছ্বূকও সাজদায়ে সহো করবে, তবে সাজদায়ে সহো-র সালাম ফিরাবে না।

* মাছ্বূক ইমামের সাথে শেষে সালাম ফিরাবে না। তবে ভুল ফিরিয়ে ফেললে সাজদায়ে সহো দিবে।

* ইমাম উভয় দিকে সালাম ফিরানোর সামান্য পর মাছ্বুক অবশিষ্ট নামায পড়ার জন্য আল্লাহু আকবার বলে উটে দাঁড়াবে। ইমামের এক সারাম ফিরানোর পর মুক্তাদী উটে দাঁগানো সুন্নাতের খেলাফ।

* মাছ্বূক অবশিষ্ট নামায পড়ার জন্য উঠে ছানা, আউযুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ পড়বে। প্রথমে কিরাত মিলানোর রাকাআত/রাকাআতগুলো,তারপর কিরাত বিহীন রাকাআত/রাকাআতগুলো পড়বে। ইমাম যে সূরা/কিরাত পড়েছেন তার সাথে তারতীব রক্ষা করা মাছ্বূকের জন্য জুরূরী নয়।

মাছ্বূক এক রাকাআত ছুটে গেলে তা কিভাবে পড়বেঃ

ইমাম উভয় সালাম ফিরানোর পর মাছ্বূক আল্লাহু আকবার বলে উঠবে, ছানা পড়বে, আউযুবিল্লাহ বিসমিল্লাহ সহ সূরা ফাতেহা পড়বে, তারপর বিসমিল্লাহ সহ সূরা মিলাবে এবং রুকু সাজদা ও বৈঠক করে সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করবে।

মাছ্বূক দুই রাকাআত ছুটে গেলে তা কিভাবে পড়বেঃ

ইমাম উভয় সালাম ফিরা’নোর পর মাছবূক আল্লাহু আকবার বলে উঠবে এবং পূর্ব বর্ণিত নিয়মে প্রথম রাকআত আদায় করবে। তিন রাকআত বিশিষ্ট নামায হলে বৈঠক করে ( বৈঠকে শুধু তাশাহ্হুদ পড়তে হবে) আর চার রাকআত বিশিষ্ট নামায হলে বৈঠক না করেই দ্বিতীয় রাকআতের জন্য উঠবে। এ রাকআতে ছানা ব্যতীত এবঙ শুধু বিসমিল্লাহসহ সূরা ফাতিহা ও সূরা/কিরাত মিলিয়ে শুধু সাজদা ও বৈঠক করে সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করবে।

মাছ্বূক তিন রাকাআত ছুটে গেলে  কিভাবে পড়বেঃ

মাছবূক যদি ইমামের সাথে এক রাকআত পায় এবং তিন রাকআত না পায়, তাহলে ইমামের উভয় সালাম ফিরানোর পর উঠে পূর্ববর্তী নিয়মে প্রথম রাকআত পড়বে এবং বৈঠক করে দ্বিতীয় রাকআতের জন্য উঠবে। দ্বিতীয় রাকআতে 

সূরা/কিরাত মিলাতে হবে এবং বৈঠক না করেই তৃতীয় রাকআতের জন্য উঠবে। তৃতীয় রাকআতে সূরা ফাতিহার সাথে কোন সূরা/কিরাত মিলাতে হবে না।

মাছ্বূক কোন রাকাআত না পেলে  কিভাবে পড়বেঃ

মাছ্বূক যদি কোন রাকআত না পায় শুধু  শেষ বৈঠকে এসে শরীক হয়, তাহলে ইমামের উভয় সালাম ফিরানোর পর উঠে একাকী যেভাবে নামায পড়া হয় সেভাবে পূর্ণ নামায আদায় করবে।

ইমামের জন্য খাস মাসায়েল

* উত্তম লেবাছ পরিধান করে নামায পড়ানো এবং পড়া উত্তম  (فتاوی محمودیتہ ج/٢)

* ইমাম ইমামতের নিয়ত করবেন। নতুবা ইমামতের ছওয়াব অর্জিত হবে না।

* ইমামের জন্য সম্পূর্ণ মেহরাবের মধ্যে দাঁড়ানো মাকরূহ তানযীহী فتاوى محمودیتہ ج/٧

* ইমাম প্রত্যেক উঠা বসা ইত্যাদির তাকবীর سمع الله لمن حمده ও সালাম জোরে বলবেন । প্রয়োজনের চেয়ে খুব বেশী জোরে বলা মাকরূহ।

* জেহরী নামাযে ( অর্থাৎ, মাগরিব ইশা ফজর ইত্যাদিতে ) প্রথম দু-রাকাতে সূর/কিরাত জোরে পড়বেন।

* মুসল্লীদের মধ্যে অসুস্থ্য বা হাজতমান্দ লোক থাকলে হালকা কিরাত  পড়বেন। তবে সুন্নাত পরিমান ছেড়ে নয়।

* রুকুর থেকে উঠার পর রব্বানা লাকাল হাম্দ বলবেন না।

* ইমামের জন্য রুকু সাজদায় তাসবীহ তিন/পাঁচবার এমনভাবে পড়া উত্তম, যেন মুক্তাদীগণ সাধারণ ভাবে তিনবার পড়তে পারে। তবে মুক্তাদীগণ কষ্ট বোধ করার আশংকা না থাকলে অধিকও পড়তে পারেন।

* ইমাম দুই সাজদার মধ্যখানে বৈঠকে দু‘আ পড়বেননা তবে শুধু اللهم اغفرلى-এতটুকু পড়তে পারেন।

* ডান দিকে সালাম ফিরানোর সময় ডান দিকের মুক্তাদী এবং বাম দিকে সালাম ফিরানোর সময় বাম দিকের মুক্তাদীদেরও নিয়ত করবেন। 

* ফজর এবং আসর নামাযের সালামান্তে মুসল্লীদের দিকে ফিরে বসবেন। ডান দিক দিয়ে ফেরা এবং ডান দিকের মুসল্লীদের দিকে মুখ করে বসা উত্তম। তবে বাম দিক দিয়ে ফেরা কিংবা পেছনের দিকে ফিরে সোজা পূর্বমূখী হয়ে বসাও জায়েয।مراقى الفلاح

* ফরয নামাযের পর অন্যত্র সরে সুন্নাত পড়া উত্তম।

দুআ/মুনাজাতের আদবও আমল সমূহ

(ক) দুআ কবুল হওয়ার জন্য সর্বক্ষণ যা যা করণীয়ঃ

১. খাদ্য পানীয়, পোশাক-পরিচ্ছদ ও আয়-উপার্জন হালাল হওয়া।

২. মাতা-পিতার নাফরমানী থেকে বিরত থাকা।

৩. আমর বিল, মারূফ ও নাহি আনিল মুনকার করা তথা ভাল কাজের আদেশ করা ও মন্দ কাজ থেকে বারণ করা।

৪. আত্নীয়দের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন না করা।

৫. কোন মুসলমানের সাথে অন্যায়ভাবে তিন দিনের বেশী কথা বন্ধ না রাখা।

৬. গীবত না করা। গীবতকারী ব্যক্তির দুআ কবূল হয় না।

৭. হাছাদ বা হিংসা না করা। হিংসুকের দুআ কবুল হয় না।

৮. বখীলী বা কৃপণতা না করা। কৃপণ ব্যক্তির দুআ কবুল হয় না।

৯. দুআ কবুল হওয়ার জন্য তাড়াহুড়া না করা।

১০. হৃদয় মরে গেলে দুআ কবুর হয় না । উল্লেখ্য-যিকির না করলে, বেশী হাসলে, বেশী কথা বললে ‍হৃদয় মরে যায়।

(খ) দুআর সময় বসার আদবঃ

১. কেবলামুখী হয়ে বসা। 

২. হাঁটু গেড়ে বসা।

৩. আদব, তাওয়াযু ও বিনয়ের সাথে বসা।

৪. পাক-সাফ হয়ে বসা।

৫. উযু সহকারে বসা।

৬. দুআর সময় আসমানের দিকে নজর না উঠানো।

(গ) দুয়ার সময় হাত উঠানোর য়িামাবলীঃ

১. সীনা বা কাঁধ বরাবর হাত উঠানো।

২. উভয় হাতের আসমানের দিকে রাখা মোস্তাহাব।

৩. উভয় হাতের আঙ্গুলসমূহ কেবলামুখী রাখা মোস্তাহাব।

৪. উভয় হাতের মাঝখানে সামন্য পরিমাণ ফাঁক রাখা মোস্তাহাব।

৫. উভয় হাতের আঙ্গুসমূহ মিলিয়ে নয় বরং সামন্য ফাঁক রাখা মোস্তাহাব।

৬. দুআ শেষ পূর্বক বরকতের জন্য মুখে হাত বুলিয়ে নেয়া।

(ঘ) দুআ শুরু এবং শেষ করার বাক্যসমূহঃ

১. দুআ শুরু এবং শেষ আল্লাহর হাম্দ ও  ছানা (প্রশংসা) বয়ান করা।

২. দুআর শুরু এবং শেষে দুরূদ ও সালাম পড়া। বিঃদ্রঃ এ দুটি আমলের জন্য নিম্নোক্ত বাক্য দিয়ে দুআ শুরু করা যায়ঃ الحمد لله ربالعلمين والصلاة والسلام على المر سلين এবং শেষে নিম্নেক্ত বাক্য বলা যায়- سبحان ربك رب العزةعما يصفون وسلام على المر سلين والحمد لله رب العلمين_

৩. ‘আমীন’ বলে দুআ শেষ করা।

(ঙ) দুআর সময় মনের অবস্থা যে রকম রাখতে হয়ঃ

১. এখলাসের  সাথে খালেস মনে দুআ করা অর্থাৎ, আল্লাহ ব্যতীত কেউ তার উদ্দেশ্য পূর্ণ করতে পারে না- এই মনোভাব বদ্ধমূল রাখা। 

২. দ্ব্যর্থহীন মনোভাব নিয়ে দুআ করা।

৩. আগ্রহ এবং অনুপ্রাণিত মনে দুআ করা।

৪. যথাসম্ভব মনোযোগ সহকারে দুআ করা।

৫. নাছোড় মনোভাব নিয়ে দুআ করা। 

৬. দুআ কবুর হওয়ার দৃঢ় আশা রাখা।

(চ) চাওয়ার আদবসমূহঃ

১. আল্লাহর আছমায়ে হুছনা  ( উত্তম নাম ) ও মহান গুণাবলী উল্লেখ পূর্বক চাইতে হয়।

২, প্রথমে নিজের জন্য, তারপর মাত-পিতা ও অন্যান্য মুসলমান ভাইদের জন্য চাওয়া। ইমাম হলে জামাআতের সকলের জন্য চাইবেন।

৩. বারবার চাওয়া; অন্ততঃ তিনবার। একই মজলিসে তিনবার বা তিন মজলিসে তিনবার । তবে তিনবার চাওয়া এই নিয়ম একাকী দুআ করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

৪. নিম্নস্বরে চাওয়া । তবে মজরিসের লোকদেরকে শোনানোর প্রয়োজনে জোর আওয়াজে দুআ করা যায় কিন্তু যদি কোন নামাযী ব্যক্তির নামাযে ব্যাঘাত ঘটে, তাহলে তখন জোর আওয়াজে দুআ করা নিষিদ্ধ।

৫. কোন নেক কাজের উর্লেখ পূর্বক দুআ কবুল হওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে  আবেদন প্রার্থনা করা।

৬. আম্বিয়ায়ে কেরাম এবং অন্যান্য নেককার ও বুযুর্গদের ওছীলায় দুআ কবুল হওয়ার প্রার্থনা করা।

(ছ) দু‘আর বিষয়বস্তু বিষয়ক আদবসমূহঃ

১. আখেরাত ও দুনিয়া উভয় জগতের প্রয়োজন সমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে দু‘আ করা।

২. কোন পাপের বিষয় না চাওয়া।

৩. এমন বিষয় প্রার্থনা না করা, যার সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে; ( যেমন নারী দুআ করবে না যেন সে পুরুষ হয়ে যায়, কিংবা বেটে মানুষ লম্বা হওয়ার বা কাল মানুষ ফর্সা হওয়ার  দুআ করবেন না, ইত্যাদী )

৪. কোন অসম্ভব বিষয়ের দুআ না করা।

৫. নিজের মুখাপেক্ষিতা, প্রয়োজন ও অক্ষমতার বিষয় উল্লেখ করা।

(জ) দুআর ভাষা বিষয়ক আদবসমূহঃ

১. হযরত রাসূল ( সাঃ) থেকে বর্ণিত বা কুরআনে বর্ণিত ভাষায় দুআ করা।

২. কথার ছন্দ মিলানোর জন্য কসরত না করা।

৩. কবিতার মাধ্যমে দুআ করলে গানের থঙ্গি থেকে বিরত থাকা। 

 

Go to Top